গাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (২৭, উজানচর, কুমিল্লা) — বাংলাদেশের প্রশাসনসহ সেনাবাহিনীর ভেতরে জামায়াতের মতাদর্শে বিশ্বাসী জিহাদি গোষ্ঠী, জিহাদি জঙ্গিরা বাংলাদেশকে শাসন বানানোর জন্য আফগানিস্তানের মডেলের মাধ্যমে এ দেশের মানচিত্র ও নারীদের স্বাধীনতা, লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং সকল মুক্ত মত ও চিন্তার স্বাধীনতার ওপর কালো কাপড়ের আবরণ পরিয়ে দিতে চায়। যথারীতি নানা জায়গা থেকে এসব উগ্রবাদীরা গলা উঁচু করে হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছে। এই অপশক্তিকে নামিয়ে দিয়েছে তথাকথিত অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা কমিটি।
এই জিহাদি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রকাশ্যে হিন্দু সংখ্যালঘু বলে চিহ্নিত করে, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে; বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে; মা-বোনদের বিবস্ত্র করে সম্ভ্রমহানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। যেন ধর্মের ফোবিয়া গ্রাস করেছে। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে রক্তের হোলিখেলায় মত্ত এই জিহাদিরা।
দেশে অসংখ্য উসকানিমূলক জাল তৈরি করা হয়েছে, যার যেন কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর প্রতিনিয়ত জুলুম, অত্যাচার, খুন, জবরদখল, উচ্ছেদ করে সম্পত্তি দখল করা হচ্ছে। মুক্তমনা ও নাস্তিক গোষ্ঠীকে করা হয়েছে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। নাস্তিকদের হত্যা করতে পারলেই যেন বেহেশত নিশ্চিত। বেহেশতে যাওয়ার নেশা আর হুরের সঙ্গে মিলনের লোভাতুর কামনা জেগে উঠেছে এসব জিহাদি গোষ্ঠীর অন্তরে।
১৪০০ বছর আগের কোরআন, কালো পতাকা, মৌলবাদীদের বুনো উল্লাস আর কালো জঙ্গি পতাকার উত্তোলন—এসব এ দেশে রুখে দিতে হবে। বাংলাদেশ কি জামায়াতি তালেবানদের হাতে চলে যাবে, নাকি আমরা ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলব? সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।
[টিকা: “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ইসলামিক উগ্রবাদী উত্থান নিয়ে কিছু ভাবনা?” শিরোনামে লিখাটি এথিস্ট ইন বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে ১৬ মার্চ ২০২৫; প্রকাশিত হয়। লিখানে বর্তমানে লিখাটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে পুনঃপ্রকাশিত করা হলো]
