গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মৌলবাদী রাজনীতির উত্থান ও মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হুমকি
৫ই আগস্ট ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি তালেবানি রাষ্ট্রে পর্যবসিত হচ্ছে।
গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে মাদারীপুর-১ আসনে ধর্মান্ধ মুসলমানদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়া তালেবানি পীরজাদা হানজালা ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদকে কটুক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতের দাবি তোলেন।
সংসদের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, যারা নবীকে কটুক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের আইন যেন এ সংসদ থেকে পাস করা হয়। এমন দাবি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ। এটি ভিন্ন মতাদর্শকে দমন করার উগ্রবাদী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য, কথিত এ এমপি মৌলবাদী সংগঠন খেলাফত মজলিসের একজন রাজনৈতিক কর্মী।
কথিত তালেবান পীরজাদা হানজালা যে নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কটুক্তি করলে ফাঁসির দাবি তুলেছেন।
সে নবী আসলে কে?
নবী মুহাম্মদ ছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রচারক। এবং মুসলমানরা উনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু ইসলাম ধর্মের যে শিক্ষা তা কি পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় শান্তি স্থাপন করে?
না করে না। ইসলাম মুসলমানকে উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত করে। যেখানে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী ও যৌন পরিচয়ের মানুষদের প্রতি অবিচার করা হয়, তাদের ধর্মের দোহাই দিয়ে নিপীড়ন করা হয়। যা নবী মুহাম্মদের ইসলাম সম্পর্কে মুসলমানদের যে শিক্ষা ও পথ তিনি প্রদর্শন করে গিয়েছিলেন সেটিরই উদাহরণ। সেক্ষেত্রে এটি বলতে বাঁধা নেই যে ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদ এমন এক উম্মতে মুহাম্মদী তৈরি করে গিয়েছেন নিজের শিক্ষার মধ্য দিয়ে, যা পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মের মধ্য দিয়ে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার জন্ম দিয়েছে। জন্ম দিয়েছে সন্ত্রাসবাদের। একই সাথে ইসলামকে কেন্দ্র করে নারী ও শিশুদের প্রতিও অবমাননা ও অবিচার করা হয়। সেখানে আজকের বাংলাদেশে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের নামে নাবালিকা শিশুদের ঋতুস্রাব শুরু হবার আগেই বিয়ের বিষয়ে ইসলামী শরিয়ার বিধান উপস্থাপন করা হয়। যার মধ্য দিয়ে একটি শিশুর শৈশবকে কেড়ে নেওয়া হয়।
ইসলাম কখনোই সমতা বিধান করতে পারে না, পারে না নারী ও শিশুর অধিকারের সুরক্ষা দিতে। যার মূলেই রয়েছেন নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর প্রদর্শিত ইসলামিক শিক্ষা।
তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্থান হওয়া এই সকল মৌলবাদী মুসলমানেরা কথিত নবী মুহাম্মদের কোন খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়?
চৌদ্দশ বছর আগে নবী মুহাম্মদ ইসলাম প্রচারকে উদ্দেশ্য হিসেবে সামনে রেখে যে যুদ্ধগুলো সংঘটিত করেছিলেন, তার পেছনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নিজস্ব প্রভাবকে বিস্তৃত করা। এবং একই সাথে সেসব যুদ্ধ জয়ের পর বন্দিনী নারীদের প্রতি নিপীড়নের ইতিহাস রয়েছে এই ইসলামেই। এই ইসলামই নারীদের দাসী হিসেবে, গণিমতের মাল হিসেবে ভোগ বিলাসের বস্তুতে পরিণত করেছিলো। এবং এর প্রদর্শক ও শিক্ষকই ছিলেন সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ। যা নারী ও শিশুদের পক্ষে সঠিক আচরণ নয়।
যে ইসলামের প্রদর্শিত জীবনব্যবস্থা এমন অমানবিক ও নিপীড়নের উদাহরণ তৈরি করেছিলো; সেই ধর্মের প্রচারকের জন্য এই উগ্রবাদী তালেবানি জঙ্গি হানজালার মতো একজন এমপি সংসদে শুধুমাত্র মুক্তমত প্রকাশের জন্য ফাঁসির দাবি তুলছেন। লজ্জা। আর এমন একজনের জন্য এ দাবি করা হচ্ছে, যিনি আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের নিদর্শন সুকৌশলে ইসলামের মধ্যে পরবাহিত করেছিলেম এবং আজকের বিশ্বে ইসলামের মধ্য দিয়ে যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার বিস্তৃতি লাভ।
উল্লেখ্য, কথিত জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো ইসলামী শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চাওয়া দলগুলোর জাতীয় সংসদে উত্থান দেশের উগ্রবাদী ও জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৌলবাদীদের উত্থানের একটি অর্থবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে।






