সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
আমাকে ফলো করুন:

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী উত্থান ও জঙ্গিবাদের শঙ্কা: তালেবানি রাষ্ট্রের পথে কি দেশ?

গাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
আপডেট : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশে সশস্ত্র জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন নতুন করে আলোচনার তৈরি করেছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ইসলামপন্থীদের মিছিল করতে। কলেমা-খচিত এসব পতাকায় ছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততার চিহ্ন। এটিই হলো মূল উদ্বেগের কারণ।

আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী নৃশংস ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবান; যারা ইসলামিক স্টেট, আইএস/ইসলামিক স্টেট নামে পরিচিত, তাদের পতাকার নকশার সঙ্গে এক ধরনের সাদৃশ্য পাওয়া যায় এসব পতাকার।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সাভারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বোমা ও বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এবং উদ্ধারের পরের দিন একটি বড় আকারের বোমা ধ্বংস করা হয়। এদের জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (নব্য-জেএমবি) সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই দেশে এসব ইসলামপন্থীদের আকস্মিক উত্থান ও এদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসে। যদিও এর আগে থেকেই দেশে শরিয়াহ আইন, খেলাফত প্রতিষ্ঠা—এসব বিষয় শোনা যাচ্ছিল। জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাই ও এনসিপি-সহ ইসলামপন্থী ১১ দলীয় জোট এখন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায়। যা দেশে উগ্রবাদের বিস্তারে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে সংবিধানে এখনও বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম মুছে না ফেলে দেশকে ইসলামপন্থী রাষ্ট্র, ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে চায় কিনা—এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।

বাংলাদেশে ধর্মের নামে যে রাজনৈতিক দলই তৈরি হোক না কেন, এরা মৌলবাদী, উগ্রবাদী, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। এদের নির্মূল করতে হবে। একই সঙ্গে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহর মতো এসব ধর্মভিত্তিক আয়াত মুছে ফেলতে হবে। কারণ এ সংবিধানই রাষ্ট্রকে মুসলমানিত্ব প্রদান করে।

কিন্তু রাষ্ট্রের কি কোনো ধর্ম আছে? না, রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম নেই। এটি কোনো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্রের যে সংবিধান ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর ওপর একটি ধর্মের মৌলবাদকে চাপিয়ে দিয়ে অধিকারকে সংকীর্ণ করে, সে সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে হবে। এ সংবিধানকে পরিবর্তন করতে হবে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এইসব জামায়াতে ইসলামীর মতো চিহ্নিত জঙ্গিদের পাশে বসিয়ে রাজনীতি করছে। এমনকি ২০২৪ সালে যেসব জঙ্গি সারা দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়েছে, তাদের ধরার বিষয়েও কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না।

২০০১-২০০৬ সালে এই বিএনপি সরকার ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানের জঙ্গিবাদের ইতিহাসও খুব বেশি পুরোনো নয়।

এমন বাস্তবতায় দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামপন্থী জোট, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সতর্কতা—বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়া থেকে কি আটকাতে পারবে? নাকি তারেক রহমানের এই বিএনপি সরকার দেশে মৌলবাদের ও সন্ত্রাসবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে?


আরও পড়ুন