মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
আমাকে ফলো করুন:

লন্ডন: বহুত্বের রঙে আঁকা এক স্বাধীনতার গল্প

গাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

নগরী ও কল্পনাজগতের এক অদ্ভুত মিশেল যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর। আভিজাত্য, ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি এবং নান্দনিকতার চারণভূমি হিসেবে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভ্রমণের তালিকায় শীর্ষে দেশটি। টেমস নদীর তীরে অবস্থিত দু-হাজার বছরেরও পুরোনো প্রাগৈতিহাসিক শহরটির আভিজাত্য, সুবিস্তৃত পিচঢালা রাস্তা, সারি সারি ক্যাফেটেরিয়া, জাঁদরেল সাংস্কৃতিক মেজাজ, সন্ধ্যার বাতাসে ভেসে বেড়ানো পৃথিবীজোড়া ভোজনরসিক মানুষের জিভে জল আনা খাবারদাবারের আল্লাদি গন্ধটা এখানে উপলব্ধি করা যায় বেশ।

এছাড়াও টাওয়ার অফ লন্ডন, ন্যাশনাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম, বাকিংহাম প্যালেসের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, মাদাম তুসো মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক অর্থব্যক্তি আপনার নিজস্ব ভুবনকে একটি মধ্যবিরতিতে স্মৃতিময় একটি উপাখ্যানে, জ্ঞানে, সৃজনে ও ঐতিহ্যে একটি সঞ্জীবনীর সঞ্চার করবে—এটি নিশ্চিতভাবেই হলফ করে বলা যায়।

কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যে ব্যঞ্জনা আপনার হৃদয়কে আলোড়িত করবে, জীবন সম্পর্কে লন্ডন শহরের মানুষের শ্রদ্ধাবোধ, নিরাপত্তা, অধিকার সচেতনতা, নির্ঝঞ্ঝাট জীবনের ইতিবৃত্ত এবং নিজস্ব শৈলী। এখানে গে, লেসবিয়ান, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার মানুষ জীবনকে এক অদ্ভুত মাদকতা নিয়ে উপভোগ করছে; জীবনসৌন্দর্যের নিখাদ ভালোবাসার এক স্বতঃস্ফূর্ততা ছুঁয়ে যায়। জীবন এখানে কত স্বাধীন! ভালোবাসার সীমারেখা এখানে অনুপস্থিত।

ভিন্ন জাতি, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ঐতিহ্য এবং লিঙ্গবৈচিত্র্যময় মানুষেরা এখানে রঙিন। বাংলাদেশ সম্পর্কে তখন ভাবতে গেলে নিজের অজান্তেই সে মানুষদের জন্য অস্থিরতা কাজ করে, যারা দীর্ঘ যুগের ধর্মীয় বঞ্চনা নিয়ে, নিরাপত্তাহীনভাবে বেঁচে আছে। বৈচিত্র্য থাকা এ মানুষদের এখানকার জীবন, ভালোবাসা, জীবন সম্পর্কে রসবোধ ও বৈচিত্র্যময় এ মানুষদের মিলনস্থলগুলো এ দেশের নাগরিক নিরাপত্তা ও অধিকার সম্পর্কে এ দেশটির মানবাধিকারের সুউচ্চ মানবিক অধ্যায় এখানে স্পষ্ট।

অবকাশকালীন সময়টায় প্রায়ই ঘুরে বেড়ানোর জৌলুসটা দিকবিদিক ছুটে চলার উন্মাদনা তৈরি করে। অক্সফোর্ড স্ট্রিট, রিজেন্ট স্ট্রিট, কার্নাবি স্ট্রিট, বেকার স্ট্রিট, অ্যাবি রোড, ডাউনিং স্ট্রিট, পোর্টোবেলো রোড, কিংস রোড, বন্ড স্ট্রিট, জার্মিন স্ট্রিট, হোয়াইটহল, দ্য স্ট্র্যান্ড, ফ্লিট স্ট্রিটের আলোঝলমলে অধ্যায় নিরমোহভাবে আকৃষ্ট করে।

শীতের জাঁদরেল মেজাজটা আপাতত স্যুট-বুটের অন্তরালেই নিষ্পেষিত হচ্ছে, সময়টা আরলি সেপ্টেম্বর। হিম হিম ঠান্ডাটা অনুভূত হয় স্মৃতির নিউরন বেয়ে নিস্তরঙ্গ। সুবিস্তৃত উদ্যানের ক্যানভাস কখনো সুস্পষ্ট, কখনো ধূসর; কিন্তু আন্দোলিত করে নিজের অজান্তেই। এক হিম-ঠান্ডায় ওল্ড কম্পটন স্ট্রিটের শি সোহোর অদূরে এক আবেদনময়ী, লাস্যময়ী নারী আরেক নারীকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। এঁকে দিচ্ছে দীর্ঘ চুম্বন। এ দৃশ্য মুগ্ধতা ছড়ায়। মনের অজান্তেই ভাবি—এ দৃশ্য যদি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দেওয়া যেত, যেখানে ধর্মের বিভেদ নেই, লিঙ্গের বিভেদ নেই; ভালোবাসা যেখানে আটকে থাকবে না অদৃশ্য দরজার ওপারে।


আরও পড়ুন