ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মানবিক স্বাধীনতার প্রশ্ন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম কি ইসলাম?
বাংলাদেশ কি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র?
এমন প্রশ্নের উত্তর না। কিন্তু ৯৩% মুসলিম-অধ্যুষিত এ অঞ্চলে ভিন্ন ধর্ম, মত, গোষ্ঠী এবং লিঙ্গের মানুষের সহাবস্থান থাকলেও ধর্মের প্রভাববলয় থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। ইসলাম ধর্মের নামে ভিন্নতা থাকা সকল পর্যায়ের মানুষের ওপর কথিত ইসলাম ধর্মের শরিয়াহ আইন, কানুন ও বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বেশ পুরোনো।
বাংলাদেশে ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষদের ক্ষেত্রে এলজিবিটিকিউ+, সমকামিতা এবং নাস্তিকতাকে অত্যন্ত নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ভিন্ন পরিচয়ের মানুষেরা একটি ভয়ংকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের আইনে পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারার অধীনে ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের কিছু যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে সমকামিতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারায় ধর্মের সমালোচনাকেও একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে যৌনতার স্বাধীনতা এবং মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্পষ্টভাবেই খর্ব করা হয়েছে।
মানুষের সহজাত যৌন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা ও মুক্তমতের মানুষদের হত্যাযজ্ঞ বলে মনে করা হয় বাংলাদেশসহ বহু সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের এক প্রস্তাবে বাংলাদেশ সমকামীদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে ভোট দিয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো সভ্য দেশও রয়েছে।
বাংলাদেশে রয়েছে ইসলামী মৌলবাদের অভয়ারণ্য। এখানে ধর্মের নামে উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের প্রভাব রয়েছে। রয়েছে ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব, যেখানে হেফাজতে ইসলাম, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হেজবুত তাওহীদ, শহীদ হামজা ব্রিগেড ও জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মীয় উগ্রবাদী প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো রয়েছে।
সারা বাংলাদেশে রয়েছে প্রচুর মিথ্যা ধর্মের চাদর। এখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ চুরি করে, মসজিদ থেকে জুতা চুরি করে, ঘুষ দেয়, ধর্ষণ করে, মন্দির ভাঙে, ভাস্কর্য ভাঙে; আবার তারাই সমকামীদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
কিন্তু এ দেশে এই মোল্লারা সমকামীদের পথ রুদ্ধ করে ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষদের পাপী, অন্যায়কারী ও ব্যভিচারী বলে আখ্যায়িত করেছে। অথচ এই মুখোশধারী ইসলামপন্থীরা সারাদিন ইসলামের কথা বলে, আর রাতের বেলা নিষ্পাপ শিশু ও মেয়েদের ধর্ষণ করে।
কিন্তু কেন তারা তা করবে না? তাদের ধর্মগুরু কথিত নবী মুহাম্মদ নিজেই ৬ বছরের এক শিশুকে বিয়ে করে ধর্ষণ করেন। তাহলে তাদের শিষ্যরা হবে না কেন?
আসলে সময়ের দাবি, ৩৭৭, ৩৯৫ ও ২৯৫/এ ধারা প্রত্যাহার করা হোক। ধর্মের সমালোচনা করা যাবে না, তোমার ভালোবাসার কথা বলা যাবে না—এমন নয়; কথা বলা উচিত।
একজন মানুষ কি যৌন মিলন ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে? নাকি দেশে লুকিয়ে থাকবে?
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থার বিকাশকে ভেঙে দিতে হবে। ধর্ম এবং এর সমস্ত নিষেধাজ্ঞা মুছে ফেলা উচিত। অনেকে বলেন, সমকামিতা নিষিদ্ধ শুধু ধর্মীয় কারণে নয়; প্রগতিশীলরাও এর বিরুদ্ধে। তাই ধর্মীয় যুক্তিই একমাত্র কারণ নয়। ধর্মের প্রভাব মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মানুষ সহজাতভাবেই নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটায়। এর ফলেই ধর্মীয় উন্মাদনা রয়েছে; মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানেও দিনের পর দিন শিশুরা বলাৎকারের শিকার হয়। সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। তাই মানুষের জীবনের বিকাশে ধর্ম, কোরআন, শরিয়াহ—এসব ছুড়ে ফেলতে হবে।






