ধর্মের ছায়াতেই জন্ম অধর্মের
ইসলাম ধর্ম কি শান্তির বাণী প্রচার করে?
মুসলমানের ধর্মগ্রন্থ কোরআন বলছে, আল-ইসলামু দীনুস সালাম—অর্থাৎ ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু এ শান্তির ধর্ম ও ধর্মে বিশ্বাসী মুমিন মুসলমানেরাই কেন অধর্মের বিষবাষ্প ছড়িয়ে চলেছে?
ধর্ম ইসলামকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদ, মৌলবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিস্তৃতি আজ ব্যাপক।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে বাংলাদেশে ২০১৩ সালের পর একটি সাময়িক বিরতির মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে সারাদেশে একযোগে মুক্তমনা ব্লগার, লেখক ও স্বাধীন মত প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একঝাঁক তরুণ, প্রগতিশীল ও ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার মানুষদের নৃশংসভাবে উদ্দেশ্য হিসেবে বেছে নিয়ে হত্যা করা হয় একে একে। এ চিত্র নির্মম, এ চিত্র বীভৎস। কিন্তু হৃদয়বিদারক এ চিত্র ইসলামপন্থী জিহাদীদের সেদিন বুনো উল্লাসে মাতিয়েছিল।
দেশজুড়ে আলোচিত এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ছিল রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় (নীল), অনন্ত বিজয় দাসের মতো ব্লগার ছাড়াও অধ্যাপক, প্রকাশক, LGBT অধিকারকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিয়ে সোচ্চার অসংখ্য মানুষেরা। যারা একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের স্বপ্নকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছিল; যেখানে বৈষম্যহীন, সমঅধিকার, যৌন বৈচিত্র্য ও ভিন্ন মতের মানুষদের প্রত্যাশিত একটি নিরাপদ আশ্রয় ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত।
কিন্তু এভাবে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে, মানুষ হত্যা করে কি কল্পিত জান্নাতুল ফেরদাউসে যাওয়া যায়?
ইসলামের নামে সহিংস উগ্রবাদ যে কোনোভাবেই ধর্মের শান্তির ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদ-আল-ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) এবং জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর মতো জঙ্গি সংগঠন সহিংসতার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। এবং এর পেছনে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মভিত্তিক দলগুলো নিয়ামক হিসেবে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।
জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী, যাদের জন্মই আজন্ম পাপ হিসেবে মৌলবাদের আদিপিতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীবাদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধিতার মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানপন্থী এ দলটি আজকের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায়। সেখানে সন্ত্রাসবাদ, আল কায়েদা ও তালেবানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছড়িয়েছে বহুদূর।
সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টে সেই উদ্বেগের দেখাও মিলে। অবাক বিস্ময়ে এ দেশের মানুষ অবলোকন করলো, গণতান্ত্রিক একটি দেশে শরিয়াহ আইন ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিতে সারাদেশে একযোগে জিহাদিদের মাতম ও সাদাকালো কলেমাখচিত পতাকার উল্লাস, উন্মাদনা।
আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ, হতবিহ্বল মুহূর্তে ভাবছিলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এ বাংলাদেশের হঠাৎ কি হলো?
ধর্ম কখনো রাষ্ট্রে সমতা বিধান করতে পারে না। ইসলাম তো প্রথমত না, শেষবারের মতও না। ইসলাম সৃষ্টির ইতিহাসই রক্তপাত, ক্ষমতা, নারী, লুণ্ঠন ও অধিকার হননের। এ ইতিহাসে ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদের জাহেলিয়াতের দর্শন নিঃসৃত এবং এর দ্বারাই আজকের মুসলমানরা উৎসাহিত হয়ে বিপদগামী হচ্ছে।
আজকের বাংলাদেশেও মৌলবাদ থেকে শুরু করে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ দেশের কথিত গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী ঐক্যজোটে ইসলামি আতঙ্কবাদী, জিহাদীদের সম্মোহিত করেছে।
আর বিএনপি?
যেখানে সরকার প্রধান তারেক রহমান নিয়েই রাজনৈতিক কালো সন্তানের তালিকাভুক্ত, আদালতের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশদাতা। ৫৭ হাজার বর্গমাইলের ছড়িয়েছে ধর্মান্ধতা। এক অজানা আতঙ্ক সেই ভয়াল হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস ও অতীতের হত্যাযজ্ঞ নতুন করে তাড়া করে বেড়াচ্ছে আজ আবারও।
ধর্ম, জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, হেফাজতে ইসলাম সব আজ একাকার। আল কায়েদার ঘাঁটি প্রস্তুতির খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর?
আজ?
কাল?
আমি, আপনি, তাঁরা, ওরা কেউ কি নিরাপদ?
কিন্তু মৌলবাদকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না। রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনন্ত বিজয় দাসের মতো মুক্তমতের মানুষদের স্বপ্নকে আমাদেরকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।






